অনলাইনে অর্থ উপার্জন
সময়টা দুই দশক আগের হবে। মেট্রো স্টেশনে, সিনেমা হলের সামনে, কিংবা বাস টার্মিনাসে দেখা যেত কিছু লোকদের যারা ব্যস্ত আপনাকে থামিয়ে, হাতে গুঁজে দিতো একটি ছোট লিফলেট। হয়তো কখনো আপনি সেটি খুলে দেখেও ছিলেন অবাস্তব কিছু কথা লেখা ছিল তাতে।
বাড়িতে বসে বিপুল আয়ের সুযোগ
” হুঁ, বাড়িতে বসে আবার আয় করা যায় নাকি? যত সব ধাপ্পাবাজি ” বলে আপনি কাগজটি দলা পাকিয়ে ছুঁড়ে ফেলেও দিয়েছিলেন। আপনি ভাবেননি অতি চুপিচুপি অন্তর্জাল পা ফেলেছে আপনার চেনা গন্ডির খুব কাছে। আর তাই আজ যখন আপনার চাকরিহীন ভাগ্নে আপনাকে জানায় অনলাইনে কাজ করে সে বাইক কিনছে, এই কোরোনার ভয়াবহ দুর্মূল্যের বাজারে, আপনার মুখটা দেখার মতো হয়।
হ্যাঁ। শুনতে রূপকথার মতো মনে হলেও আজকের যুগে বাড়িতে বসে উপার্জন করা যায় আর ভালো মতো আয় হয়ে যদি আপনার একটি সক্রিয় কম্পিউটার বা ল্যাপটপ, নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা আর হাতে কিছু সময় থাকে। কি বললেন? ল্যাপটপ আছে, ওয়াইফাই আছে, হাতে বাড়তি সময়ও আছে? তাহলে আসুন দেখেনি কিভাবে এদের উপযোগে বাড়িতে বসে কিছু অর্থ সমাগম ঘটতে পারে।
ফ্রিল্যান্স
শিক্ষিত ও গুণী যুব সম্প্রদায়ের কাছে ফ্রীল্যানসিং একটি অতি লোভনীয় রাস্তা উপার্জনের জন্য। আজ নয় বেশ কিছুদিন আগে থেকেই একটি অভ্যাস বা ট্রেন্ড শুরু হয়েছিল যেখানে কিছু তরুণ নাগরিকরা সপ্তাহে ৬ দিন, ৯ ঘন্টার চাকরি করা থেকে নিজেদের সময় ও প্রতিভা বা কার্যক্ষমতা দিয়ে কাজ খুঁজে নিতো অনলাইনে। আগের প্রজন্ম কখনোই ফ্রীল্যানসিং কে বাঁধাধরা চাকরি ও মাইনের সমতুল্য ভাবেনি। ফ্রিল্যান্স করা ছেলের পাত্রী জোটানো মুশকিল হতো। কিন্তু এখন ছবিটা পরিবর্তন হচ্ছে। গৃহবন্দী মানুষ চাকরি ও উপার্জনের জন্য হন্য হয়ে খুঁজছে একটু বাড়তি অর্থ।
আর এখন তাই বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স বিষয়ক ওয়েবসাইটের বাড়ছে জনপ্রিয়তা। আপওয়ার্ক, ফিভার বা ফ্রীল্যান্সার ডট কম এর মতো ওয়েবসাইটে পাবেন আপনি প্রচুর কাজের সুযোগ। একটি একাউন্ট বানাতে হবে আপনাকে তারপর পছন্দ মতো কাজ খুঁজে, সেটি করার অনুরোধ রাখতে হবে। আপনার প্রোফাইল দেখে কর্মদাতার পছন্দ হলে কাজটি আপনি পাবেন এবং কাজ সম্পূর্ণ হলে তবে আপনি আপনার বরাদ্দ অর্থ পাবেন যা আগে থেকে নির্ধারিত থাকবে আপনার ও কর্মদাতার যুগ্ম সম্মতিতে। তবে হতে পারে কিছু সাইট আগে থেকে আপনার কাজের একটি বিবরণ ও নিদর্শন চাইবে। কিছু কর্মদাতা বার বার আপনাকে আপনার কাজটি সংশোধন করতেও বলতে পারে।
ডাটা এন্ট্রির কাজ করে অনলাইনে আয় করুন ঘরে বসে
ডাটা এন্ট্রি, ঘরে বসে অর্থ উপার্জনের অন্যতম উপায়: একটি নির্দিষ্ট ধরনের ডাটা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রতিলিপি তৈরি করাকে ডাটা এন্ট্রি বলে। এটি হতে পারে হাতে লেখা কোন তথ্যকে কম্পিউটারে টাইপ করা। কিংবা, হতে পারে কম্পিউটারের কোন একটি প্রোগ্রামের ডাটা একটি স্প্রেডশিট ফাইলে সংরক্ষণ করা।
ঘরে বসে গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয়
ঘরে বসে আয় করার নিশ্চিত উপায় এর একটি হলো গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয়। আপনার ওয়েবসাইট অথবা ব্লগ এ নির্ধারিত স্থানে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করা যায়। গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট এ বিজ্ঞাপন দেখানো হবে। ব্যবহারকারীরা বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে আপনি গুগল থেকে টাকা পাবেন। অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসে আয়ের সবচেয়ে নিরাপদ ও সহজ হলো গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে টাকা আয়। আপনি পৃথিবীর যে কোন স্থানে থাকেন না কেন নিয়মিত আপনার সাইটে ভিজিটর বাড়ানোর মাধ্যমে আপনার আয় বৃদ্ধি করতে পারেন।
ঘরে বসে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো আপনার ওয়েবসাইটে অন্যের প্রোডাক্ট প্রচারের মাধ্যমে বিক্রি করা। যার মাধ্যমে আপনি বিক্রিত প্রোডাক্টের দাম থেকে নির্ধারিত হারে কমিশন পাবেন। আপনার ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে যত বেশি প্রোডাক্ট বিক্রি হবে তত বেশি আয় হবে আপনার। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে অ্যামাজন।
ঘরে বসে হন ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্ট
বর্তমান সময়ে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্ট এর চাকরি খুবই লোভনীয়। আপনি ঘরে বসেই পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের যে কোন কোম্পানির ভার্চুয়াল আ্যাসিস্টেন্ট হতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনাকে দেয়া কাজ সমূহ ঘরে বসেই সম্পাদন করতে পারেন। বর্তমান সময়ে ভার্চুয়াল আসিস্টেন্ট এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আর দক্ষতা অনুযায়ী আপনার আয় বৃদ্ধি করতে পারেন। যা শুধুমাত্র ঘরে বসে করলেই হয়।
ঘরে বসে ইউটিউব থেকে আয়
বর্তমান সময়ে ঘরে বসে আয় করার সেরা মাধ্যম হলো ইউটিউব। আপনি ইউটিউব এ চ্যানেল খোলার পর ভিডিও তৈরি করে আপলোড দিতে হবে। আপনার ভিডিও যত বেশি ভিউ হবে তত আপনার চ্যানেলের ভিউ আওয়ার বাড়বে। পাশাপাশি আপনার চ্যানেলের নির্দিষ্ট সংখ্যক সাবস্ক্রাইবার প্রয়োজন। আপনার ভিডিও বেশি সংখক লোক দেখার জন্য মানসম্পন্ন ও সৃজনশীল উপায়ে ভিডিও তৈরি করতে হবে। তাই আগে থেকে আপনার ভিডিও’র টপিক নির্ধারণ করে নিতে হবে। সে অনুযায়ী ভিডিও তৈরি করতে হবে। আপনার ভিডিও’র ভিউয়ার ও বিজ্ঞাপন থেকে আপনি আয় করতে পারেন। খুব সহজে আপনি ইউটিউব এর মাধ্যমে ঘরে বসে আয় করতে পারেন।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে ঘরে বসে আয়
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয়ের নানা উপায় রয়েছে। ফেসবুক, টুইটার, পিন্টারেস্ট, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি মাধ্যম ব্যবহার করে আয় করা যাচ্ছে। আর সোশ্যাল মিডিয়া মার্কের্টিং এর কাজ ঘরে বসে করা যায়।
আপনার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে নানাভাবে মার্কেটিং করা যায়। আপনার পেজ এর যদি ফলোয়ার বেশি হয় যে কোন কোম্পানির পণ্যের প্রচারণার মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারেন। পাশাপাশি আপনার পেজ বিক্রির মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারে। ঘরে বসেই আপনি সোশ্যাল মিডিয়ার ম্যাধ্যমে আয় করতে পারেন। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর সবচেয়ে অন্যতম মাধ্যম হল ফেসবুক। আপনি যদি চান শুধু মাত্র ফেসবুক মার্কেটিং শিখেই ঘরে বসে অনলাইনে ইনকাম শুরু করে দিতে পারেন।
হাতের কাজ করে উপার্জনঃ
অনেকেই আছেন যারা সুন্দর সুন্দর সেলাই করতে পারেন, পুঁতি দিয়ে দারুন দারুন নকশা তুলতে জানেন, প্লাস্টিক দিয়ে অসাধারণ কিছু বানাতে পারেন, তারা আপনাদের এই প্রোডাক্ট গুলো অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন। আর এর জন্য আপনাকে খুব বেশি কষ্ট করতে হবে না। আপনি একটি ফেসবুক পেইজ দিয়েই আপনার প্রোডাক্ট গুলো বিক্রি করতে পারবেন।
ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজার
আজকাল প্রায় সকল বিজনেস ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে । কিন্তু সবাই বিজ্ঞাপন দেয়া, ডলার সংগ্রহ ও পে করার মত অবস্থায় থাকে না । আপনি যদি এমন ৫০-১০০ জন মানুষের বিজনেসের জন্য অ্যাড দেয়ার ও পেমেন্ট করার কাজটি করতে পারেন এখান থেকে আপনি ৪০-৫০ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন ।
সোশ্যাল মিডিয়া পেইজ ম্যানেজমেন্ট
অনেক কোম্পানি , বিজনেস ম্যান, সেলিব্রেটি ও রাজনীতিবিদ সহ নানা পেশার গুরুত্বপূর্ণ বাক্তিত্ব আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া পেইজ পরিচালনা করার জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক নিয়োগ দিয়ে থাকেন । আপনি এই সকল বিষয়ে অভিজ্ঞ হলে খুব সহজেই এমন ২/৪ টি পেইজ বা একাউন্ট ম্যানেজ করে নিজের জন্য ভাল টাকা আয় করতে পারবেন ।
অনলাইন কোর্স-
আপনি যে কোন বিষয়ে খুব পারদরর্শী হলে সেই বিষয়ে অনলাইনে একটি কোর্স বা ভিডিও টিউটরিয়াল তৈরি করতে পারেন । এটি বই লেখার মতই একবার তৈরি করতে পারলে তা বারবার বিক্রি করতে পারবেন । আপনি যদি জানেন কি করে ওজন কমাতে হয় ? কি করে ইংরেজি শেখা যায় ? কি করে শেয়ার মার্কেট থেকে টাকা আয় করা যায় ? কি করে বিজনেস ডিলে বিজয়ী হতে হয় ? তবে এসবের উপর ভাল করে একটা ৭/১৫ দিন বা একমাসের একটা অনলাইন কোর্স তৈরি করে ফেলুন আর টাকা আয় করতে থাকুন ।
পার্সোনাল ট্রেইনিং –
আপনি যদি, ফিটনেস, ওজন কমানো, বডি বিল্ডিং, মার্শাল আর্ট বা এমন কিছু সম্পর্কে খুব ভাল জ্ঞান রাখেন তবে অনেক বড় লোক বা তাদের ছেলে মেয়েদের জন্য তারা মোটা অংকের টাকা খরচ করতে প্রস্তুত । আপনাকে শুধু আপনার সেক্টরে সেরা হতে হবে আর সমাজের উচু শ্রেণির লোকদের সাথে একটু যোগাযোগ থাকতে হবে ।
ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর
শুধু দেশের নাম করা খেলোয়াড় বা মডেলরাই না আপনি যদি আপনার সেক্টরে পরিচিত হন তবে আপনার সেই পরিচিতি বা সুনামকে কাজে লাগিয়ে আপনার লোকাল বা জাতীয় পর্যায়ের অনেক বিজনেস বা ব্রান্ডের মুখপাত্র বা অ্যাম্বাসেডর হয়ে আপনি কামাতে পারেন মোটা অংকের টাকা ।
পডকাসট –
আমাদের দেশে বিষয়টি একটু নতুন মনে হলেও টাকা ইনকাম করার জন্য অতি সুন্দর একটি মাধ্যম । এটা অনেক্তা ইউটিউব চ্যানেলের মত । আপনার খুব পছন্দের ও জানা সুনার মধ্য টপিকস ঠিক করে রেগুলার সেসব নিয়ে কথা বললে আস্তে আস্তে আপনার অনেক ভক্ত স্রতা পেয়ে জাবেন । যারা রেগুলার আপনার শো শুনবে । জন নামের একজন আমেরিকান তার podcast Entrepreneur on Fire মাসে প্রায় ২ লাখ ডলার ইনকাম করেন । ২০১২ সালের পর থেকে তিনি প্রায় ১৩ মিলিওন ডলার আয় করেন । এই মার্কেট অনেক্তা নতুন আব্বং জারা নতুন তারা খুব সহজে এই মার্কেট এ থুক্তে পারবেন । আপনি পডকাস্ট শুরু করার পরে কি কি ভাবে ইনকাম করতে পারবেন আমি বলে দিচ্ছি –
বিজ্ঞাপন (sponsors)
নিজের পণ্য বিক্রি
গিফট বা দান
সাবস্ক্রাইবার দের থেকে ইনকাম
Putting on live shows লাইভ সো থেকে ইনকাম
